" বডি’ বড়সড় পেশী ও সিক্স প্যাক নয়, সুস্থ থাকার নাম ব্যায়াম"
জন্টি রোডস, যিনি তাঁর দুর্দান্ত ফিল্ডিং দিয়ে ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীদের মুগ্ধ করেছিলেন, এখন আধা-ভারতীয়। গোয়ায় তাঁর একটি বাড়ি আছে এবং তাঁর মেয়ের নাম ‘ইন্ডিয়া’। ৫৬ বছর বয়সেও তিনি ভীষণ ফিট। তাঁর ফিটনেস মন্ত্র জানালেন
“আমার ফিটনেস ফাংশনাল। আমার বয়সে, অনেকটাই নির্ভর করে চলাফেরার উপর। তিনটি বিষয় আমরা পরিবারে গুরুত্ব দিই—ঘুম, পুষ্টি এবং নড়াচড়া।”
আপনি এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন: ‘আমি কাউকে ক্যাচ নিতে শেখাতে পারি, কিন্তু বলের কাছে কীভাবে পৌঁছতে হয়, তা শেখাতে পারি না।’
৫৬ বছর বয়সেও আপনি এমন ডাইভিং ক্যাচ নেন কীভাবে?
গত বছর, আমি লেজেন্ডদের একটি টুর্নামেন্টে খেলছিলাম। বাউন্ডারিতে একটি ডাইভিং সেভ করেছিলাম। আমার স্ত্রী বলেছিল—“তুমি কী ভাবছিলে?” এখন আর উড়ে যাওয়াটা সমস্যা নয়, সমস্যা হচ্ছে মাটিতে নামা!
ডায়েট প্ল্যান সম্পর্কে বলুন।
কোনও নির্দিষ্ট ডায়েট প্ল্যান নেই। যদি আমরা বাচ্চাদের ভালো খাবার খেতে বলি, তবে বাড়িতে সেই খাবারই থাকতে হবে। আমরা বাড়িতে যা কিনি, তা সচেতনভাবে কিনি। যতটা সম্ভব প্রাকৃতিক ও তাজা খাবার খাই। বাড়িতে চিনি ব্যবহার করি না। বাইরে খেলে একটু খাই, কিন্তু বাড়িতে নয়।
ব্যায়াম সম্পর্কে কী বলবেন?
কোনও কঠোর ট্রেনিং রেজিমেন নয়। নড়াচড়াই আসল। আমি দৌড়াতে ভালোবাসি না। অবসরপ্রাপ্ত ক্রিকেটার হিসেবে হাঁটু বাঁচিয়ে চলি। তবে আমি একজন ‘মুভার’। সাঁতার কাটতে ভালোবাসি—এটা দারুণ ওয়ার্কআউট। সার্ফিংও করি। পাহাড়ে হাঁটা আমার কার্ডিও। প্রতিদিন প্রায় ২–৩ ঘণ্টা নড়াচড়া করি। আমার স্ত্রী যোগব্যায়াম শেখান।
৫০-এর পর দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতার জন্য তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস কী?
স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা সবাই ব্যস্ত থাকি, কিন্তু আমাদের দিনে অন্তত ৫–১০ মিনিট নিজেকে দিতে হবে। প্রকৃতির মাঝে থাকা খুব জরুরি—বাইরে সময় কাটানো, হাঁটা ইত্যাদি। দ্বিতীয়ত, শক্তি ও ফিটনেস বজায় রাখা—রেজিস্ট্যান্স ব্যান্ড ব্যবহার করা যেতে পারে। তৃতীয়ত, নিয়মিত নড়াচড়া।
ভারতে অনেক তরুণ হঠাৎ মারা যাচ্ছে—খেলতে গিয়ে বা ইভেন্টে। আপনি কী মনে করেন?
ভারতে ‘বলিউড ফিটনেস টেমপ্লেট’ খুব প্রচলিত—বড় পেশী আর সিক্স প্যাক। কিন্তু ফিটনেস মানে সেটি নয়। ফিটনেস মানে সুস্থ থাকা, কার্যক্ষম থাকা।
“দীর্ঘায়ু মানে ১০০ বছর বাঁচা নয়। আমি যদি ৮০ বছর বয়সে আমার নাতি-নাতনিদের সঙ্গে দৌড়াতে পারি, সেটাই দীর্ঘায়ু। আমার বছরগুলো যেন স্বাস্থ্যকর হয়—এটাই আসল।”
সাপ্লিমেন্ট নেন কি?
আমি খেলোয়াড় হিসেবে কখনও সাপ্লিমেন্ট নেইনি। এখনো নেই না। আমি বিশ্বাস করি, ভালো ঘুম, ভালো খাবার ও নিয়মিত ব্যায়ামই যথেষ্ট।
অতিরিক্ত ব্যায়াম কি সমস্যা?
হ্যাঁ, যদি আপনি নিজের শরীরের সীমা না বোঝেন। আমার বয়সে, যদি জিমে যাই, দ্রুত ফিটনেস ফিরে পেতে চাই—কিন্তু এতে আঘাত পেতে পারি। তাই ধীরে ধীরে এগোতে হয়।
আপনার ফিটনেসের সংজ্ঞা কী?
ফিটনেস মানে শুধু ১০০ বছর বাঁচা নয়। আমার কাছে ফিটনেস মানে, আমি যেন আমার বাচ্চাদের সঙ্গে খেলতে পারি, তাদের সঙ্গে সময় কাটাতে পারি এবং সুস্থ থাকতে পারি।
রোডস রিওয়াইন্ড: যাঁর নাম মহাকর্ষকে হার মানিয়েছিল
মার্চ ২২, ২০০২: দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়ার ম্যাচে জন্টি রোডস একটি অসাধারণ ডাইভিং ক্যাচ নেন।
১৯৯২–২০০৩: আন্তর্জাতিক কেরিয়ারে ৫২টি টেস্ট ও ২৪৫টি ওয়ানডে খেলেছেন।
Ref: TOI Dated 18th March 2026

